স্টাফ রিপোর্টার :
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে পানি নেমে গেলেও বন্যার ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আমন মৌসুম চলমান থাকায় সবচেয়ে আতঙ্কে আছেন কৃষকেরা । কারণ ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত মেরামত না হলে আবারও একই স্থান দিয়ে পুনরায় পানি ঢুকে বারবার আমন বীজতলা তলিয়ে নষ্টের আশংকা করছেন কৃষি বিভাগ।
গত বৃহস্পতিবার বিপদসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও শুক্রবার থেকে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ইতোমধ্যে বাঁধের ভাঙা পয়েন্টগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হলেও বাড়িঘর থেকে পানি নেমে কিছুটা নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি নামার সাথে সাথেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বন্যার ক্ষতি ও ভয়াবহতা।
ফুলগাজী ও পশুরাম উপজেলায় এ বছর আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক হাজার হেক্টরেরও বেশি।যার মধ্যে ১‘শ ৮০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজ বপন সম্পন্ন হয়েছে। তবে দ্রুত বাঁধের ভাঙা স্হানগুলো মেরামত করা না হলে পুনরায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশংকা কৃষি বিভাগের।
এই বন্যায় দুই উপজেলায় প্রায় ২৫ হেক্টরের মত বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ৪-৫ বার নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘেরসহ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঠিক তদারকির অভাবে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় পানির তোড়ে বারবার বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এলাকাবাসীর টেকসই বাঁধ ও নদী ড্রেজিং করার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে অনেক লেখালেখি ও প্রতিবেদনের পরও সরকারিভাবে ফলপ্রসু কোনো উদ্যোগ আজও চোখে পড়েনি। ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মানুষের দু:খ কবে মিটবে এনিয়ে দেখা দিয়েছে হতাশা।

মৎস্যচাষী জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই ভারতীয় উজানের পানিতে মুহুরী নদীতে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বাঁধ মেরামতে বরাদ্দ আসলেও নামমাত্র কাজ করে ঠিকাদাররা তাদের অর্থ আদায় করে নেন। যার কারণে প্রতিবছর আমাদেরকে ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও মাছ চাষের পুকুরসহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, বন্যার ফলে কৃষকরা সঠিক সময়ে আমন বীজতলা তৈরি করতে পারবে না। ভোগান্তিতে রয়েছে কৃষক। এতে ফসল উৎপাদনে ব্যাহত হবে লক্ষ্যমাত্রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন বলেন, বাঁধ পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদাররা।
মুহুরী বাঁধ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল-হাসান বলেন, ৭৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই চলছে। এর বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় মানুষ সুফল পাবে।
উল্লেখ্য; গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানির তোড়ে ভেঙে যায় ফেনীর মুহুরী নদীর তিনটি স্থানে। এতে করে লোকালয়ে পানি ঢুকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









